অনলাইন ডেস্ক ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত খবর বিকৃতভাবে প্রচারের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সম্প্রচারমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে জনস্বার্থে দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে, অন্যথায় তাদের লাইসেন্স নবায়ন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এফসিসি চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কারের এই সতর্কবার্তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের ওপর প্রশাসনিক চাপ হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। ব্রেন্ডন কার তার পোস্টে উল্লেখ করেন, যেসব সম্প্রচারকারী সংস্থা গুজব বা বিকৃত তথ্য প্রচার করছে, লাইসেন্স নবায়নের আগে তাদের সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সক্রিয় ব্যক্তিরা এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ যুদ্ধসংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনে প্রভাব ফেলতে পারে এবং লাইসেন্স নবায়নের সঙ্গে সংবাদ উপস্থাপনের ধরনকে যুক্ত করার ইঙ্গিত দেয়।
মুক্ত মতপ্রকাশ বিষয়ক সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশনের পাবলিক অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর অ্যারন টের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সরকারকে যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য সেন্সর করার অনুমতি দেয় না।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, কিছু সংবাদমাধ্যম সৌদি আরবে ইরানি হামলায় মার্কিন জ্বালানি বিমান ধ্বংস হওয়ার তথ্য ভ্রান্তভাবে প্রচার করেছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, পাঁচটি বিমানের মধ্যে চারটির কোনো ক্ষতি হয়নি এবং সেগুলো ইতোমধ্যে পুনরায় পরিষেবায় ফিরেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে জনমতও বিভক্ত রয়েছে। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যায়, ৫৩ শতাংশ ভোটার সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেছেন। জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ৮৯ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের ৬০ শতাংশ এই অবস্থান নিয়েছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এক ব্রিফিংয়ে যুদ্ধবিষয়ক জনমত নেতিবাচক হওয়ার জন্য সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংবাদ উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
এদিকে সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সমালোচনা করে পিট হেগসেথ আশা প্রকাশ করেন, ট্রাম্পঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ল্যারি এলিসনের ছেলে ডেভিড এলিসন ভবিষ্যতে নেটওয়ার্কটির নিয়ন্ত্রণ নিলে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
ইপেপার
Copyright © 2026 ThikanaTV.Press. All rights reserved.