
অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে গত ২৪ ঘণ্টায় হামলা, পাল্টা হামলা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানে ব্যাপক প্রাণহানি, লেবানন সীমান্তে সামরিক অভিযান, উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা এবং বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সতর্কতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। সংস্থাটি ১৫৩টি শহর ও ৫০৪টি স্থাপনায় হামলার তথ্য দিয়েছে। কেরমানশাহ প্রদেশের ড্রোন স্থাপনায় হামলার পর স্যাটেলাইট চিত্রে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে। হামাদান ও কেরমান প্রদেশে পৃথক হামলায় বেসামরিক ও সামরিক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। বুশেহর প্রদেশে আইআরজিসির পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। তেহরানের একটি হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলার পর ধ্বংসস্তূপের ছবি প্রকাশিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার প্রবেশপথে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে তেজস্ক্রিয় ঝুঁকি নেই। ইরানের ইসফাহান ও শিরাজ শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা জোরদার করেছে এবং নতুন স্থল অভিযান শুরু করেছে। সর্বশেষ হামলায় লেবাননে অন্তত ৫২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেনাবাহিনীকে সীমান্ত এলাকায় নতুন নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল দখলের নির্দেশ দিয়েছেন।
ইরান ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তেল আবিব, পশ্চিম জেরুজালেম ও এলাতে সাইরেন বেজেছে। শনিবার থেকে ইসরায়েলে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ এবং এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করলে তা লক্ষ্যবস্তু করা হবে। বিশ্ব তেলের বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি হামলার পর দুটি স্থাপনায় উৎপাদন স্থগিত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে আগুন লাগে। ওমানের দুকুম বন্দরে ড্রোন হামলায় একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগে। কাতারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে পাকিস্তান আংশিকভাবে আকাশসীমা বন্ধ করেছে। কাতার এয়ারওয়েজ ফ্লাইট স্থগিত করেছে। কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের সরাসরি সরিয়ে নেওয়ার সহায়তা দিতে না পারার কথা জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চীন সামরিক সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করে রাজনৈতিক ও নৈতিক সমর্থনের কথা জানিয়েছে এবং আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। ফ্রান্স জানিয়েছে, প্রয়োজনে অংশীদার দেশগুলোকে সহায়তা করবে। যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ-সংক্রান্ত ক্ষমতা আইন নিয়ে বিতর্ক চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ইরান পরিস্থিতিতে অবস্থান নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক দেশ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে ড্রোন হামলার পর সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও সামান্য ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লেবাননে সংঘাতের কারণে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।
পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ এবং বিভিন্ন দেশ সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ও বেসামরিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বহাল রয়েছে।











