নিজস্ব প্রতিবেদক: ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দুবাইয়ের বিলাসবহুল এলাকা পাম জুমেইরাহ-এ বিস্ফোরণের ঘটনার পর সেখানে বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট কেনা বাংলাদেশীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বেড়েছে। বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় অনেকে বিকল্প গন্তব্যে যেতেও পারছেন না বলে জানা গেছে।
দুবাইয়ের পারস্য উপসাগরসংলগ্ন কৃত্রিম দ্বীপ পাম জুমেইরাহতে বসবাসরত কয়েকজন বাংলাদেশী ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, শনিবার রাতে এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং দূর থেকে আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়। এর পর থেকে তারা পরিবার নিয়ে বাসায় অবস্থান করছেন। দুবাই ও আবুধাবিতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী একাধিক বিনিয়োগকারী একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, আবাসিক এলাকার কাছাকাছি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের ঘটনা ঘটেছে।
গত শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে, যার মধ্যে ১৫২টি ধ্বংস এবং দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫৪১টি ড্রোন শনাক্ত করে ৫০৬টি ভূপাতিত করার দাবি করা হয়েছে। পাল্টা হামলায় আমিরাতে অন্তত তিনজন নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নিহতদের একজন বাংলাদেশী, সালেহ আহমদ, যিনি আজমানে ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
হামলায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের মোবাইলে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে ঘরে অবস্থান এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দুবাইসহ আমিরাতের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশীদের বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, দুবাইয়ে ৪৬১ বাংলাদেশীর নামে ৯২৯টি নিবন্ধিত সম্পত্তি রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৯ সালে চালু হওয়া গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তির মালিকানা থাকলে দীর্ঘমেয়াদি আবাসনের সুযোগ তৈরি হয়। এ সুযোগে অনেক বাংলাদেশী বিনিয়োগকারী সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় বিনিয়োগ করেন। তবে ২০২৪ সালের শুরুতে বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ সালের পরবর্তী ১৫ বছরে বিভিন্ন উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এর একটি অংশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিনিয়োগ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের জন্য জরুরি হটলাইন ও ই-মেইল সেবা চালু করেছে। রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ এক ভিডিও বার্তায় প্রবাসীদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার এবং কেবল জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশী বসবাস করছেন। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটি থেকে ২০৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৪১৭ কোটি ডলার।
ইপেপার
Copyright © 2026 ThikanaTV.Press. All rights reserved.