
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের পেচিবাড়ি জামে মসজিদে ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের বিরোধের জেরে মসজিদে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে এসে মুসল্লিরা মসজিদ বন্ধ দেখতে পান এবং বাইরে নামাজ আদায় করেন। পরে পুলিশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মসজিদ কমিটির উপস্থিতিতে তালা খুলে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেহরির পর ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিরা মসজিদে গিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। বাধ্য হয়ে তারা মসজিদের বাইরে নামাজ পড়েন। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দুপুরের দিকে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে তালা খুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর নতুন করে মসজিদ কমিটি গঠন করা হয় এবং আব্দুল হাই নামে একজন ইমাম দায়িত্ব পান। তার কেরাত নিয়ে আপত্তি তুলে গ্রামের একাংশ ইমাম পরিবর্তনের দাবি জানায়। এ নিয়ে কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারির সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমাধান হয়নি। পরে তারাবির নামাজে অন্য ইমাম আনার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, বৈঠকের স্থান নির্ধারণ নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তী আলোচনাও ভেস্তে যায়। এর পর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমাম নামাজ পড়ানো বন্ধ করে দেন বলে দাবি করেছেন একাংশ মুসল্লি। শনিবার রাতে গ্রামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অন্য একজন ইমাম দিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করা হয়। রোববার ভোরে মসজিদে তালা দেওয়ার ঘটনা সামনে আসে।
মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ইমাম পরিবর্তন নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে, তবে মসজিদে কে তালা দিয়েছে তা তিনি জানেন না। তিনি বিষয়টিকে স্থানীয় অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাগবাটি ইউনিয়নের জামায়াতের আমির মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাকে দলীয়ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এটি গ্রামের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তিনি তালা দেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানান এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বসে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলেন।
সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক শফিকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। কে বা কারা তালা দিয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মসজিদ কমিটির সহযোগিতায় তালা খুলে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











