
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশে একটি অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় আনার পিছনে ছিল সুশীল সমাজের একটি নীল নকশা।’
আওয়ামী লীগ, বিএনপির রাজনৈতিক সহিংসতাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উস্কানি দেওয়া হয়েছিল এবং এই সহিংসতার সূত্র ধরেই সেনাবাহিনীর সমর্থনে ড. ফখরুদ্দিনের নেতৃত্বে একটি অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল এবং সেই সরকার দু’বছরের মতো ক্ষমতায় থেকেছিল। ওই অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় রাখার পরিকল্পনা ছিল আরও দীর্ঘ সময়ের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক চাপ এবং এক এগারো সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতার কারণে জনক্ষোভের সূচনা হয় এবং তারা একটি নির্বাচন দিয়ে দায়িত্ব অর্পণ করে।
২০০৮ এর ডিসেম্বরে নির্বাচন আয়োজনই ছিল এক এগারো সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এখন বিরোধী দলের আন্দোলন নেই। বিরোধী দলের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তারা এখন সাংগঠনিকভাবে বিপর্যস্ত। আর এ কারণেই কোটা সংস্কার আন্দোলনের উপর ভর করে আরেকটি এক এগারো আনার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন চলছে। বিশেষ করে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পর এই পরিকল্পনার পালে আরও হাওয়া লেগেছে।
গত কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে উস্কে দেওয়ার জন্য যারা মাঠে নেমেছেন, তাদের মধ্যে একেবারে বিবেকের তাড়নায় এমন মানুষের সংখ্যা আসলে খুবই কম। প্রত্যেকে আসছেন নানা রকম উদ্দেশ্য এবং স্বার্থসিদ্ধির জন্য।
গতকাল দেখা গেছে, এক এগারোর সময় যারা ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন, যারা গণতন্ত্রকে বিদায় দিতে চেয়েছিলেন তারা সবাই মাঠে নেমেছেন। ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বে সুশাসনের জন্য নাগরিক হঠাৎ করে এতদিন পর সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং সরকারের পদত্যাগ দাবি করে নতুন নির্বাচন চেয়েছেন’।
অন্যদিকে, রাজধানীর মিন্টু রোডের সামনে এক এগারোর কুশীলবদের অন্যতম দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখার আহমেদ, রাজাকারের কন্যা পরিবেশবিদ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ বেশ কয়েকজন সুশীলরা উপস্থিত ছিলেন। এই সুশীলদের একটাই পরিচয় তারা অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় আনতে চান। তারা বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে চান।
মজার ব্যাপার হল, সুশীল সমাজ মিন্টু রোডে বিকেলবেলা সমাবেশ করে। তার আগেই সরকারের নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা ছয় শিক্ষার্থীকে মুক্ত করে দেয়। তাহলে এই কর্মসূচির অর্থ কি? শিক্ষার্থীদের যখন ছেড়েই দেওয়া হয়েছে, তারপরও তারা এরকম কর্মসূচি কেন পালন করছে? বিষয়টি সরাসরি শিক্ষার্থীদের সাথে সরকারের একটি আলোচনার বিষয়। সেখানে তৃতীয়পক্ষ ঢুকে পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক করতে চাইছে।
বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, মাঠে যেহেতু সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে, এখন যদি অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে নেওয়া যায়; আর অন্যদিকে বিদেশ থেকে সেনাবাহিনীর উপর এবং বাংলাদেশের উপর যদি কোন নিষেধাজ্ঞা বা চাপ সৃষ্টি করা যায় তাহলে আর একটি এক এগারো আসার পথ সুগম হবে বলে মনে করছেন তারা। আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই চেষ্টা চালাচ্ছে এক এগারোর কুশীলবরা।
সবচেয়ে লক্ষণীয় ব্যাপার হল, এক এগারোর সময় যে দুটি সংবাদপত্র মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল-প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার; তারা আবার স্বরূপে ফিরে এসেছে। এই দুটি পত্রিকা এখন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে উস্কে দিতে এবং জনমনে সরকারের বিরুদ্ধে একধরনের মনে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টির জন্য আদাজল খেয়ে লেগেছে। আর এই সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকারকে তার কৌশল ঠিক করতে হবে। কারণ এখন এক এগারোর সেই কুশীলবরা মাঠে নেমেছে পুরানো এজেন্ডা নতুন করে বাস্তবায়ন করার জন্য।’