
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিরাজগঞ্জ সালেহা ইসহাক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তিনি সরকার পতনের ছাত্র বিরোধী আন্দোলন নস্যাত করতে নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে জানা যায়। শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ ও দুর্ণীতিমুক্ত করতে প্রধান শিক্ষকের দ্রুত অপসারণ কামনা করছে ছাত্রী ও অভিভাবকগণ। এদিকে প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, কিছুসংখ্যক অভিভাবক তাঁকে দিয়ে অন্যায় কাজ করাতে না পেরে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।
নিয়মবর্হিভূত পরীক্ষার সময় পরিবর্তন, পরীক্ষার নথিভুক্তকরনে বানান ভুল, রশিদ ছাড়া অতিরিক্ত ফি আদায়, আসন ও ফলাফল প্রদানে স্বেচ্ছাচারিতা, অবৈধভাবে গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎসহ ইচ্ছেমতো কর্মস্থল ত্যাগ করার বিস্তর অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক আফছার আলীর বিরুদ্ধে।
জানা যায়, প্রিটেস্ট পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে না নিয়ে দেরিতে শুরু করে অভিভাবক ও ছাত্রীদের মাঝে নানা সমালোচনা দেখা দিয়েছে। প্রধান শিক্ষকের মেয়েকে ১ম স্থান করতে না পেরে বিনা নোটিশে ফরম পূরন শেষ করে রশিদ ছাড়া অতিরিক্ত ফি আদায় করেন। মাঠের জলাশয় ভরাট করার নামে নিয়ম বহির্ভূত প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রির টাকা রেখে দিয়েছেন নিজের পকেটে। এর আগে জেলার স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় তাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও বহাল তবিয়তে স্বপদে বহাল রয়েছেন। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গল দেখিয়ে তাঁর এমন অপকর্ম ঢাকতে ইতিমধ্যে বদলীও চেয়েছেন বলে জানা গেছে।
নাম না বলে শর্তে চলতি বছরের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির একাধিক অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানা যায়, মে মাসে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত দেওয়া থাকলেও ইচ্ছেমতো জুলাই মাসে নেওয়া হয়। যা এখন পর্যন্ত ফলাফল ঘোষনা না করে বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহন করছেন প্রধান শিক্ষক আফছার আলী। টিফিনে খাবারের মান নিম্নমানের দেওয়ায় তা মৌখিকভাবে বললেও তিনি কোন কর্নপাত করছেন না। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনে বানান সঠিকভাবে পূরণ করে দিলেও বারবার অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য নানান পাঁয়তারা করেন বলে সদ্য এসএসসি ফরম পূরনের অভিভাবকরা জানান।
বৈষম্য ও অনিয়ম রুখতে ছাত্র সমন্বয়ক ইমরান হোসেন বলেন, স্বাধীনতা এনেছি অন্যায় করতে নয়। সংশোধন না হলে বা হয়রানীর প্রমান পেলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবো।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল করিম এর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।’