
নিজস্ব প্রতিবেদক: চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। তার এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় চলছে। একজন সংসদ সদস্যকে হিন্দি সিনেমার স্টাইলে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর আনারের অন্ধকার জগৎ সম্পর্কেও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। অনেকে বলছে, ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের গডফাদার ছিলেন আনার। মাদক চোরাচালানের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। চোরাচালানে নিয়ে বিশেষ করে স্বর্ণ চোরাচালানের দ্বন্দ্বের কারণে আনারকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে।
আনার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের গোয়েন্দা প্রতিনিধি দল আজ ভারতে গেছেন। কিন্তু আনার হত্যাকাণ্ডের পর জনপ্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ড, জনপ্রতিনিধিরা কি করেন, তারা কতটুকু আইন এবং নীতির মধ্যে কাজ করেন, তাদের অর্থের উৎস কি এবং কিভাবে তারা বিত্তশালী হয়ে উঠলেন সে ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।’
আনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সকলের জন্য একটি সংকেত বলেই মনে করছেন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে এখন যারা জনপ্রতিনিধি আছেন তাদের অনেকেই এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না তা নিয়ে খোঁজখবর করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে শতাধিক জনপ্রতিনিধি নজরদারিতে আছে। শুধুমাত্র আনার নয়, ওই এলাকার বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি যেমন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান সহ বিভিন্ন স্তরের রাজনীতিবিদরা চোরাচালানসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রাথমিক ভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় যারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের অনেকেই অনৈতিক ব্যবসা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ রয়েছে। এখন এই ধরণের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে’।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, দু টি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। একটি হল আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের পর জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তার বিষয়টি একটি বড় ইস্যু হিসাবে দাঁড়িয়েছে। বহু জনপ্রতিনিধি রয়েছেন যাদের শত্রু রয়েছেন, যারা বিভিন্ন ধরনের হত্যার হুমকির মধ্যে আছেন তাদের ব্যাপারে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তা ছাড়াও অনেক জনপ্রতিনিধি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে নানা রকম ব্যবসা বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এই সমস্ত ব্যবসা বাণিজ্য কতটা বৈধ, কতটা অবৈধ সে বিষয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনেকেই শূন্য থেকে এখন ফুলে ফেঁপে উঠেছেন। তাদের বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এই সম্পদগুলো কিভাবে অর্জিত হয়েছে সে ব্যাপারেও খোঁজ খবর নেওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিভিন্ন সূত্র গুলো বলছে, পুরো দক্ষিণাঞ্চলে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ কতটুকু সত্য, কতটুকু মিথ্যা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংসদ সদস্যকে বিভিন্ন মহল হুমকি দিয়েছে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই সমস্ত দ্বন্দ্ব এবং যাদেরকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়েছে তাদেরকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন নজরদারিতে রেখেছেন। তাদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সরকারের মহল শিকার করছেন যে, আনারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সরকারের জন্য একটি শিক্ষা এবং এটি সরকারকে এক ধরনের অস্বস্তিতে ফেলেছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না হয় সে ব্যাপারে এখন থেকে সতর্কতা অবলম্বন করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।’