
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা নতুনপাড়া গ্রামের ‘কান্দর’ ও ‘গারা ক্ষেত’ এলাকায় দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে চলা জলাবদ্ধতার অবসান ঘটেছে। এলাকাবাসীর অর্থায়ন এবং উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মাটির নিচে ১ হাজার ১০০ ফিট দীর্ঘ ৪০০ এমএম ইউপিভিসি পাইপ স্থাপন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী পাইপলাইনের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর ফলে প্রায় দুই হাজার বিঘা ফসলি জমি নতুন করে চাষাবাদের উপযোগী হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন দশক আগে কয়েকজন ব্যক্তি কৃষিজমির প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করেন। এতে ওই এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে পানি জমে থাকে সারা বছর। সামান্য বৃষ্টিতেই জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা আমন, বোরো কিংবা সবজি—কোনো ফসলই নিয়মিত আবাদ করতে পারতেন না। বছরের পর বছর জমি অনাবাদি পড়ে থাকায় কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা নেমে আসে।
জলাবদ্ধতার প্রভাবে শুধু কৃষি নয়, এলাকার সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থাও ভেঙে পড়ে। অনেক কৃষক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন, কেউ কেউ পেশা বদলাতে বাধ্য হন। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চললেও প্রভাবশালীদের বাধায় তা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারীর নেতৃত্বে সরেজমিন তদন্ত করা হয় এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে এবং প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের লক্ষ্যে পাইপলাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিএডিসি রায়গঞ্জ জোনের সহকারী প্রকৌশলী আনন্দ বর্মণ বলেন, “৪০০ এমএম ইউপিভিসি পাইপের মাধ্যমে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে। এতে চলতি মৌসুম থেকেই কৃষকরা ফসল আবাদে সুফল পাবেন। এটি একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান।”
স্থানীয় কৃষক তোমেজ উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম খোকন, হানিফ মন্ডল, ছোরহাব, লিটন ও পরেশ তালুকদার বলেন, “প্রায় ৩০ বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে আমরা সর্বস্ব হারিয়েছি। বৃষ্টি হলেই ধান নষ্ট হয়ে যেত। এখন পাইপ বসানোর ফলে আবার চাষাবাদের আশা ফিরে পেয়েছি।” তারা জানান, এবার আমন মৌসুম থেকেই জমিতে আবাদ শুরু করা যাবে বলে তারা আশাবাদী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমেই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
তিনি আরও বলেন, কৃষিজমি রক্ষা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা টেকসই করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। ভবিষ্যতে কেউ অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের ফলে শুধু জলাবদ্ধতার সমস্যাই নয়—দীর্ঘদিনের কৃষি ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি আবার সচল হবে।











