আজ বৃহস্পতিবার ,৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি (হেমন্তকাল)

দুপুর ১২:০৭

৪০ নোবেল বিজয়ীর সঙ্গে কুমিল্লার মেয়ে আফরিনা

পাশাপাশি তিনি রসায়নে বিশ্বের সেরা ৬০০ বিজ্ঞানীর সঙ্গেও নিজের গবেষণা অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন

বিশ্বে এ যাবতকালে রসায়নে নোবেল পাওয়া ৪০ জন বিজ্ঞানীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা খন্দকার আফরিনা হক। লিন্ড্যাও নোবেল লরিয়েটের ৭১তম মিলনমেলায় যোগ দিতে জার্মানিতে যাবেন তিনি। পাশাপাশি তিনি রসায়নে বিশ্বের সেরা ৬০০ বিজ্ঞানীর সঙ্গেও নিজের গবেষণা অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন।

লিন্ড্যাও নোবেল লরিয়েট সভাগুলোতে শারীরবিদ্যা, চিকিৎসা, পদার্থবিদ্যা এবং রসায়ন এই তিনটি প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কারের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়ে থাকে। লিন্ড্যাও লরিয়েট বিভিন্ন সেশন, বক্তৃতা, আলোচনা, মাস্টার ক্লাস, প্যানেল ডিসকাশন এবং নোবেল বিজয়ীদের সঙ্গে তরুণ বিজ্ঞানীদের জ্ঞান, ধারণা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়কে কেন্দ্র করে সাজানো হয়।

বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের পৃষ্ঠপোষকতায় নানা যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশ থেকে মনোনীত কয়েকজনের মধ্যে মাত্র দুইজনকে এবার আমন্ত্রণ জানিয়েছে লিন্ড্যাও নোবেল লরিয়েট কমিটি। তাদেরই একজন খন্দকার আফরিনা হক।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মেয়ে আফরিনা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় ব্যাচ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে এ যাবতকালে সর্বোচ্চ ফলাফলধারী আফরিনা হক শুরু থেকেই ছিলেন গবেষণামুখী। স্নাতকে ৩.৮৯ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৯২ পেয়ে অসাধারণ ফলাফল করা আফরিনা পূর্বের গবেষণা প্রকাশনা এবং রসায়নে আরও গবেষণার আগ্রহের কারণে এই আমন্ত্রণ পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে এম ফিল করছেন।

এ বিষয়ে খন্দকার আফরিনা হক বলেন, “এতো বড় কোনো সুযোগ পাবো সেটা ভাবিনি। এটা স্বপ্নের মতো। যারা রসায়নে নোবেল পেয়েছেন তারা তো পুরো পৃথিবীর সেরাদের সেরা। তাদের সামনে থেকে দেখাই তো ভাগ্যের ব্যাপার। তার মধ্যে আমি আবার তাদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাচ্ছি এটা অকল্পনীয়।”

এই সুযোগ পেতে কী কী মাপকাঠি পূর্ণ করতে হয়েছে জানতে চাইলে আফরিনা বলেন, “তারা মূলত দেখেছে একাডেমিক ফলাফল কেমন, গবেষণার দক্ষতা এবং আগ্রহ। আমি এগুলো দিয়েই আবেদন করেছিলাম।”

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. সৈয়দুর রহমান বলেন, “আফরিনা শুরু থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী ছিল। গবেষণার প্রতি ঝোঁক ছিল। লিন্ড্যাও নোবেল লরিয়েটে উদীয়মান রসায়নবিদ হিসেবে তার এই আমন্ত্রণ পাওয়ার সংবাদ বিভাগের জন্য খুবই গর্বের। এমন শিক্ষার্থীরাই বিভাগের সম্পদ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের তারকা। আমরা তার আরও সাফল্য প্রত্যাশা করি।”

সর্বশেষ খবরঃ

আপনার জন্য আরো খবর

উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে