আজ শুক্রবার ,২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি (হেমন্তকাল)

রাত ২:৫৩

হাফেজে কুরআন এবং হাফেজে কুরআনের পিতা মাতার মর্যাদা

কোরআন সর্বশেষ আল্লাহর কিতাব। আল্লাহ কোরআনকে মানুষের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তা রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমিই তার রক্ষক।’ (সুরা হিজর, আয়াত : ৯)
কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিন তো তারাই, আল্লাহর কথা স্মরণ হওয়া মাত্রই যাদের অন্তরসমূহ কেঁপে ওঠে। আর যখন তাদের সামনে কোরআন তেলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে।’ -সূরা আনফাল: ২
আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘যাদের আমি কিতাব দান করেছি তারা তা যথাযথভাবে তিলাওয়াত করে, তারাই তাতে বিশ্বাস করে। আর যারা এটা প্রত্যাখ্যান করে তারা ক্ষতিগ্রস্ত।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১২১)
হাশরের ময়দানে নুহ আঃ এর ছেলে এসে বলবে আল্লাহ আমি নুহ আঃ এর ছেলে আল্লাহ বলবেন তুমি কার ছেলে আমার দেখার সময় নাই। লুত আঃ এর স্ত্রী এসে বলবে আল্লাহ আমি লুত আঃ এর স্ত্রী আল্লাহ বলবেন তুমি কার স্ত্রী আমার দেখার সময় নাই। ইব্রাহীম আঃ এর ছেলে এসে বলবে আল্লাহ আমি ইব্রাহীম আঃ এর বাবা আল্লাহ বলবেন তুমি কার বাবা আমার দেখার সময় নাই। এভাবে বহু লোক ফিরে যাবে, একজন আমলদার হাফেজের বাবা এসে বলবে আল্লাহ আমি অমুক হাফেজের বাবা আল্লাহ বলবেন তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলা? আমিতো তোমাকেই খুজছি! তারপর ঐ বাবা কে নুরের টুপি পরানো হবে। যা সূর্যের চাইতেও অতি আলোকিত হবে।
আজ আমরা কুরআন হাদীসের আলেকে জানবো কেন আমরা সন্তান কে হাফেজ বানাবো।
১। হযরত উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত,নবী (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম যে কুরআন শিখে এবং অন্যকে শিখায়। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫০২৭)
২। হাশরের ময়দানে হাফেজের বাবা কে নুরের টুপি পরানো হবে। যা সূর্য থেকেও বেশী উজ্জ্বল হবে।
সুনানে আবু দাউদ”
৩। হাফেজে কুরআন কে জাহান্নাম হারাম করে দেয়া হবে। যদি কুরআন অনুযায়ী জীবন জাপন করে। তিরমিজি: ৫/২৯০৫
৪। হাফেজে কুরআন ১০ জন জাহান্নাম অবধারিত ব্যাক্তির সুপারিশ করবে এবং তা গ্রহন করা হবে।
রাসূল(সাঃ)ইরশাদ করেন,যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করবে এবং একে হিফয করবে এবং এর যাবতীয় হালাল বিষয়গুলোকে হালাল ও হারাম বিষয়সমূহকে হারাম মনে করবে আল্লাহ পাক তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।শুধু তাই নয়,তার পরিবারস্থ এমন দশ ব্যক্তির ব্যাপারে তার সুপারিশ মকবুল হবে যারা দোযখে যাওয়ার উপযুক্ত হয়ে গিয়েছিল।(তিরমিযী শরীফ-২ঃ১১৪)
৫। হাফেজে কুরআন আল্লাহর পরিবারের অন্তর্ভুক্ত তথা আল্লাহর খাস গোলাম। যদি কুরআন অনুযায়ী আমল করে। মুসনাদে আবু দাউদ: ৩/২২৩৮
৬। হাফেজে কুরআন কে আল্লাহ তায়ালা ৬৬৬৬ তলা বাড়ী উপহার দিবেন। একেক তলার আয়তন হবে আসমান এবং জমিন সমান।
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি
বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, কিয়ামাতের দিন
ছাহেবে কুরআনকে তথা হাফেজে কুরআনকে বলা হবে, কুরআন পাঠ করতে করতে উপরে উঠতে থাকো, তুমি দুনিয়াতে যেভাবে ধীরেসুস্থে পাঠ করতে সেভাবে পাঠ করো। কেননা তোমার তিলাওয়াতের শেষ আয়াতেই (জান্নাতে) তোমার বাসস্থান হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১৪৬৪ )
৭। রাসুল (স:) বলেন, জান্নাতে একটি নদী রয়েছে যার নাম রাইয়ান। তার উপর মারজানের একটি শহর রয়েছে। যা সত্তুর হাজার স্বর্ন ও রৌপ্য দ্বারা প্রস্তুত। তা একমাত্র কোরআনে হাফিজদের জন্য নির্ধারন করে রাখা হয়েছে। (কানযুল উম্মাল)
৮। রাসুল (স:) বলেন, “সবচেয়ে ধনী হল হাফেজে কোরআন যার হৃদয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারীম সংরক্ষন করেছেন। (কানযুল উম্মাল)।
৯। হযরত আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেছেন, যখন কোন সম্প্রদায় আল্লাহর কোন ঘরে সমবেত হয়ে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে এবং পরস্পরে তা নিয়ে আলোচনা করে, তখন তাদের
উপর শান্তি বর্ষিত হয়, তাদেরকে রহমাত ঢেকে নেয়, ফেরেশতাগণ তাদেরকে ঘিরে রাখে, এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের কাছে তাদের প্রশংসা করেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১৪৫৫)
১০। হযরত আবু দারদা রাঃ বলেন, আমি রাসূল (সাঃ)
কে ইরশাদ করতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি ইলমে দ্বীন হাসিল করার উদ্দেশ্যে কোন রাস্তায় চলে আল্লাহ তাআলা এ কারণে তাকে জান্নাতের রাস্তাসমূহ থেকে এক রাস্তায় চালিয়ে দেন। [অর্থাৎ ইলম হাসিল করা তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের কারণ হয়ে যায়] ফেরেশতাগণ তালেবে ইলমের সন্তুষ্টির জন্য আপন পাখা বিছিয়ে দেন। আলেমের জন্য আসমান জমিনের সমস্ত মাখলুক এবং মাছ যা পানিতে রয়েছে সকলেই মাগফিরাতের দুআ করে। নিশ্চয় আবেদের উপর আলেমের ফযীলত এরূপ যেরূপ পূর্ণিমার চাঁদের ফযীলত সমস্ত তারকারাজির উপর। নিশ্চয় আলেমগণ নবীগণের ওয়ারিস আর নবীগণ দিনার ও দিরহাম এর ওয়ারিস বানান না। তারা তো ইলমের ওয়ারিস বানান। অতএব যে ব্যক্তি ইলমে দ্বীন হাসিল করল, সে পরিপূর্ণ অংশ লাভ করল। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৬৪১। মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-১২৩১। কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২৮৭৪৬ )
১১। আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে,
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিনজন লোক একত্রিত হলে তাদের একজনকে তাদের ইমাম বা নেতা হতে হবে। আর তাদের মধ্যে ইমামত বা নেতৃত্বের সবচাইতে বেশী হাক্বদ্বার সেই ব্যক্তি যে সবচেয়ে বেশী কুরআন মাজীদ অধ্যয়ন করেছে। (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৪১৫)
১২। কোরআন পাঠকারীর মা-বাবাকে বিশেষ সম্মাননা : সাহল ইবনু মুআজ আল-জুহানি (রহ.) থেকে তার পিতা থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোরআন পাঠ করে এবং তা অনুযায়ী আমল করে, কিয়ামতের দিন তার মা-বাবাকে এমন মুকুট পরানো হবে যার আলো সূর্যের আলোর চেয়েও উজ্জ্বল হবে। ধরে নাও, যদি সূর্য তোমাদের ঘরে বিদ্যমান থাকে (তাহলে তার আলো কিরূপ হবে?)। তাহলে যে ব্যক্তি কোরআন অনুযায়ী আমল করে তার ব্যাপারটি কেমন হবে, তোমরা ধারণা করো তো!’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৪৫৩)

সংকলনেঃ মাওঃ জাহিদুল ইসলাম
প্রিন্সিপাল সেনবাগ রেসিডেন্সিয়াল আলিম মাদ্রাসা।

সর্বশেষ খবরঃ

আপনার জন্য আরো খবর

উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে