আপনার জানার ও বিনোদনের ঠিকানা

সরকারি কর্মকর্তার বাড়ি-অফিসে তল্লাশি, মিলল ১০০ কোটির সম্পত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বান্ডিল বান্ডিল টাকা। ব্রিফকেসে সাজানো বিভিন্ন ব্রান্ডের দামি সমস্ত ঘড়ি, আইফোন, আইপ্যাড-কী নেই সেখানে। সরকারি এক কর্মকর্তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে চোখ কপালে উঠেছে দুর্নীতি দমনকারী সংস্থা অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোর। দিনভর বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হলো ১০০ কোটির আয়-বহির্ভূত সম্পত্তি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তেলঙ্গানায়। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি’) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

সংবাদমাধ্যম বলছে, তেলঙ্গানার এক সরকারি কর্মকর্তার বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ কোটি রুপির সম্পত্তি উদ্ধার করেছে রাজ্যটির পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা (এসিবি) অভিযুক্ত ওই সরকারি কর্মকর্তার নাম শিবা বালাকৃষ্ণ। তিনি তেলঙ্গানার রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথোরিটির সেক্রেটারি। এছাড়া হায়দরাবাদ মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির ডিরেক্টরও ছিলেন তিনি। প্রাথমিক তদন্তের পর অ্যান্টি করাপশন ব্যুরোর দাবি, শিবা বালাকৃষ্ণ নামক ওই সরকারি কর্মকর্তা বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট কোম্পানিকে বেআইনিভাবে পারমিট দিয়েছেন। তার বিনিময়েই কোটি কোটি রুপি অর্থ ও দামি উপহার নেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম বলছে, হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তির হদিস পেতেই বুধবার ভোর থেকে অভিযানে নামে এসিবি। বালাকৃষ্ণের বাড়ি ও অফিস মিলিয়ে মোট ২০ জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। ভোর পাঁচটা থেকে শুরু হয়েছিল তল্লাশি, রাতভর সেই তল্লাশি চলে। এর মধ্যে বালাকৃষ্ণের বাড়ি এবং অফিস ছাড়াও তার আত্মীয়দের বাড়িতেও তল্লাশি চলে। বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হতে পারে বলে জানা গেছে। বালাকৃষ্ণের বিরুদ্ধে আয়-বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জনের মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন শাখা জানিয়েছে, আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন প্রচুর সম্পত্তি অর্জন করেছেন বালাকৃষ্ণ। এইচএমডিএ এবং রেরা-র অফিসেও চিরুনি তল্লাশি চালান এসিবির কর্মকর্তারা। বিপুল সম্পদ সংগ্রহের জন্য বালাকৃষ্ণ তার সরকারি পদকে কাজে লাগিয়েছেন বলে সন্দেহ করছে এসিবি। জানা গেছে, অ্যান্টি করাপশন ব্যুরোর তল্লাশি অভিযানে বালাকৃষ্ণের বাড়ি থেকে ১০০ কোটি রুপির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নগদ ৪০ লাখ রুপি রয়েছে, পাওয়া গেছে ২ কেজি সোনার গহনা।

এছাড়া ৬০টি দামী বিদেশি ঘড়ি, ১৪টি আইফোন, ১০টি ম্যাক বুক ও আইপ্যাড, একাধিক ইলেকট্রনিক গ্যাজেট, ব্যাংক ডিপোজিট ও ফ্ল্যাটের নথিও উদ্ধার হয়েছে। এর পাশাপাশি বেনামি একাধিক সম্পত্তিও উদ্ধার হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।’

Facebook
Twitter
WhatsApp
Pinterest
Telegram

এই খবরও একই রকমের

আইনি নোটিশ নিয়ে কবির বিন সামাদের মন্তব্য

সম্প্রতি ইউটিউবার ঠিকানা টিভি ডট প্রেসের পরিচালক কবির বিন সামাদের ‘‘মাষ্টার মশায়ের ভো দৌড়’’ শিরোনামে কমেডি শর্টফিল্ম ক্রিয়েট করে। যেখানে শব্দ চয়নে বেশ অসংগতি দেখা

বেলকুচি-চৌহালী-এনায়েতপুরে রাজনৈতিক সহিংসতা প্রসঙ্গ

রাজনীতিতে তথা নির্বাচনের মাঠে প্রতিপক্ষ ছিল, আছে, থাকবে, নির্বাচন যাবে, আসবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, মতভেদ থাকবে, চলবে কৌশলী প্রচারণা, থাকবে জয়-পরাজয়, এরপরেও থাকতে হবে পারস্পাররিক সম্প্রীতি,

যশোরের মেয়ে ক্যাপ্টেন তানিয়া ২৯৭ যাত্রীকে বিপদ থেকে বাঁচালেন

জেমস আব্দুর রহিম রানা: যশোরের মেয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্যাপ্টেন তানিয়া রেজার বিচক্ষণতা ও সাহসিকতায় বিপদ থেকে বাঁচালেন বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজে থাকা ১২ ক্রু সহ

পারিবারিক অশান্তির কারণে ২২ দিন আত্মগোপনে ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা’

নিজস্ব প্রতিবেদক: পারিবারিক অশান্তির কারণে বাড়ি থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে থাকা ব্যাংক কর্মকর্তা রাজীব আহমেদকে উদ্ধার করেছে কুমারখালী থানা পুলিশ। নিখোঁজের ২২ দিন পর শুক্রবার (১২

লাশ দেখে উচ্চৈঃস্বরে কান্নাকাটি নিষিদ্ধ

আমাদের দেশে অনেকেই বলেন, মৃত স্ত্রীকে স্বামী আর মৃত স্বামীকে স্ত্রী দেখতে পারেন না। অথচ শরিয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। অন্যদিকে মৃত পুরুষ হোক অথবা

শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ড. ইউনূসের জামিনের মেয়াদ বাড়ল’

ঠিকানা টিভি ডট প্রেস: গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের সংরক্ষিত ফান্ডের লভ্যাংশের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ৪ বিবাদীর জামিনের মেয়াদ বেড়েছে।

বিজ্ঞাপনঃ

আরো খবর দেখুন

গ্রেপ্তারের ভয় ছাড়ছে না বিএনপি নেতাদের’ নিজস্ব প্রতিবেদক দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে অংশ নিতে শুরু করেছেন। তিন মাস আত্মগোপনে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা যখন ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছেন, তখনো নতুনভাবে গ্রেপ্তারের ভয়ে আছেন তারা। বিএনপির অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আবারও নতুনভাবে ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় পুরোনো মামলায় নতুনভাবে আসামি দেখিয়ে আটকের ঘটনা ঘটছে। এমন অবস্থায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ভয়ভীতির মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন। গ্রেপ্তার আতঙ্কে অনেকেই ঘরবাড়ি কিংবা এলাকা ছাড়া। জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি’) দ্বাদশ সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন প্রতিবাদ হিসেবে কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি দিয়েছিল বিএনপি। তারও আগে ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি মহানগর ও জেলা পর্যায়ে একই কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। কিন্তু পুলিশ মঙ্গলবার রাজধানীতে কোথাও কালো পতাকা মিছিল করতে দেয়নি বলে বিএনপির অভিযোগ। বরং ওইদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুনভাবে শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নতুনভাবে দায়েরকৃত ছয়টি মামলায় ৪৫৬ জনের বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। ৭০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ওইদিন রাজধানীর উত্তরায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে এবং ধাক্কা দিয়ে জিপে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। যদিও তাকে পরবর্তী সময়ে পুলিশ ছেড়ে দেয়। সে সময় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ সংগঠনের ৪ নেত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই দিনে বাগেরহাটের রামপালে বিএনপির কালো পতাকা মিছিল থেকে দলটির কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনিও কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছিলেন।’ বিএনপির অভিযোগ, গত বছরের ২৮ অক্টোবরের পর বিরোধীদের মাঠে দাঁড়াতে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নেতাকর্মীদের যাকে যেখানে পেয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে। এখনো বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তল্লাশির নামে হামলা চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আকবর হোসেন এবং তার পুত্র সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন রনির বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পুলিশ পরিচয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। ওই পরিবারের অভিযোগ, এ সময় বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও ‘লুটপাট’ করা হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বন্দুকের নলে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর সরকারের তথাকথিত মন্ত্রি-এমপিরা এখন আরও বেসামাল কথাবার্তা বলছেন। অবৈধ সরকার বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে লেলিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি বিএনপির পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কালো পতাকা মিছিলে হামলা-নির্যাতন চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও বিরোধী নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে পুলিশ পরিচয়ে তল্লাশির নামে হামলা-ভাঙচুর করা হচ্ছে।’ বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানান, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা ধীরে ধীরে মাঠের রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। অনেকেই কারাগার থেকে ছাড়াও পেয়েছেন। হামলা-মামলা উপেক্ষা করে কৌশলে কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশের তিন মাস পর গত ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকা ও জেলায় জেলায় কালো পতাকা মিছিলে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় অনেককে। তাদের এ উপস্থিতি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আশা জাগিয়েছে। আবারও রাজপথে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে সরকারবিরোধী দলগুলো। কিন্তু গত ৩০ জানুয়ারি সারা দেশে কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় অনেকের মধ্যে আবারও কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে পরবর্তী কর্মসূচি প্রণয়নে বিএনপি কিছুটা সময় নেবে। বিএনপির দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যনুযায়ী ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের ৪-৫ দিন আগে থেকে অদ্যাবধি মোট গ্রেফতার হন ২৫ হাজার ৬৪৪ জনের বেশি নেতাকর্মী। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন গণমাধ্যমকে বলেন, একতরফা ডামি নির্বাচন করেও স্বস্তিতে নেই অবৈধ সরকার। তাদের সবসময় পতনের আতঙ্ক তাড়া করছে। এজন্যই বিএনপির শীর্ষ নেতাদের জামিন না দিয়ে দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে।’