আপনার জানার ও বিনোদনের ঠিকানা

‘মামলা থেকে বাঁচতে ভারতের দ্বারস্থ হচ্ছেন ড. ইউনূস’

নিজস্ব প্রতিবেদক: একের পর এক ঝামেলায় পড়েছেন ইউনূস। যিনি নিজেকে একসময় আইনের ঊর্ধ্বে মনে করতেন। আইন বিচার তার জন্য প্রযোজ্য না-এমন একটি বদ্ধমূল ধারণা যা ছিল। আর এ কারণে তিনি আইন এবং নিয়ম নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন করেছেন। সরকারি সম্পত্তিকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি হিসাবে ব্যবহার করেছেন। সেই ড. ইউনূস এখন নানামুখী চাপে। তার অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের সমস্ত ফিরিস্তি আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছে। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে যেয়ে নিজেই তিনি প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিয়েছেন। ফলে সাধারণ জনমনে যেমন ইউনূস সম্পর্কে নতুন করে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে, ঠিক তেমনিভাবে সরকারও নির্মোহ ভাবে আইনের প্রয়োগ ঘটাতে পারছে সহজেই। আর একারণেই এখন চাপে আছেন ইউনূস।

প্রত্যেকটি ঘটনায় দেখা যায় যে, ইউনূস আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। তিনি একজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। বিশ্বে তার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সুনাম রয়েছে। এ কারণে তিনি বাংলাদেশের আইন কানুনকে একেবারেই পাত্তা দেননি। তিনি যে আইন কানুনকে পাত্তা দেননি তার একাধিক প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন- তিনি বয়স অতিক্রান্ত হওয়ার পরও গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বহাল ছিলেন। অথচ আইন অনুযায়ী একজন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কত বছর থাকতে পারেন তা তার অজানা থাকার কথা নয়। কিন্তু ড. ইউনূস জেনে বুঝেই অন্যায় করেছেন।

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিকদের লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রেও তিনি আইনের ঊর্ধ্বে উঠে নিজের মতো করে স্বেচ্ছাচারিতা করছেন। গ্রামীণ টেলিকমের টাকা এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে রহস্যময়ভাবে স্থানান্তর করেছেন এবং কেউ তাকে কোনদিন জিজ্ঞাসা করবেন না-এরকম বদ্ধমূল ধারণা থেকেই তিনি এই সমস্ত করে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনা যেটি ড. ইউনূস করেছেন তা হল গ্রামীণ কল্যাণকে করায়ত্ত করা। গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড সভায় গ্রামীণ কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, গ্রামীণ কল্যাণ গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি এবং তাদের কল্যাণ সাধন। কিন্তু ড. ইউনূস আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেই গ্রামীণ কল্যাণের মালিক হয়ে গিয়েছিলেন। এই সমস্ত অপকর্মগুলো কোনদিন কেউ ধরতে পারবে না। কারণ ইউনূস অত্যন্ত প্রভাবশালী, তার হাত অনেক লম্বা এমনকি তিনি ভাবতেন এবং সরকারও তার ব্যাপারে চোখ বন্ধ করে ছিল এতকাল। এখন সরকার আস্তে আস্তে আইনগুলো খতিয়ে দেখছে এবং প্রত্যেকটা জায়গায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ ঘটাচ্ছে। এই অবস্থায় চাপে পড়ে ইউনূস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু এবং তাদের নিজের দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত যে, ড. ইউনূসকে বাঁচানোর সময় তাদের হাতে নেই। তারা শুধু বিবৃতি, উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ প্রকাশ দিয়েই তাদের দায় সারছেন। কিন্তু ড. ইউনূসের জন্য কেবল সহানুভূতি যথেষ্ট নয়। তার জন্য প্রয়োজন হস্তক্ষেপ এবং এমন কেউ যারা সরকারকে ড. ইউনূসের ব্যাপারে নমনীয় হওয়ার জন্য বাধ্য করতে পারে। সেরকম অবস্থা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নেই। আর তাই ড. ইউনূস এখন নতুন কৌশল নিয়েছেন।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ড. ইউনূসের বেশকিছু কার্যক্রম রয়েছে। ভারতে তিনি বিভিন্ন সময়ে গেছেন, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বক্তব্য রেখেছেন। সরকারের নীতি নির্ধারক অনেকের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। ভারতের বিজেপি নিয়ন্ত্রিত থিঙ্ক ট্যাঙ্ক গুলোর সঙ্গে এক ধরনের যোগাযোগ রয়েছে ড. ইউনূসের। আর এই সূত্র ধরেই নিজে বাঁচার জন্য এবার ড. ইউনূস ভারতের দ্বারস্থ হচ্ছেন-এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।’

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, ভারতে ড. ইউনূসের যে বন্ধুরা আছেন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যারা ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রভাবশালী তাদেরকে কাজে লাগিয়ে ড. ইউনূস সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। তিনি সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতায় যাওয়ার জন্যও চেষ্টা করছেন। এখন দেখার বিষয় যে, ভারত ড. ইউনূসের ব্যাপারে সরকারের সাথে কথা বলে কি না বা সরকারকে এ ব্যাপারে কোন পরামর্শ দেয় কি না। আর অন্যদিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সঙ্গে যে সমঝোতার প্রস্তাব দিচ্ছেন সেটা সরকার কিভাবে নেয়।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, ড. ইউনূসের ব্যাপারে তারা নির্মোহ। সরকারের পক্ষ থেকে তার ওপর কোন অন্যায় অত্যাচার বা জুলুম করা হচ্ছে না। শুধুমাত্র আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ড. ইউনূস দেশ এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অনিয়ম করছেন। কাজেই কেউই আইনের নিজস্ব চলমান গতিকে রোধ করতে পারেন না। এই ধরনের পরামর্শ সরকার কানে বেনে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট জানানো হয়েছে।’

Facebook
Twitter
WhatsApp
Pinterest
Telegram

এই খবরও একই রকমের

‘ঢাবির হলে অস্ত্র ও মাদক মজুত বেড়েছে, ৫ বছরে বহিষ্কার’ ৫২

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে অস্ত্র ও মাদক রাখার প্রবণতা বেড়েছে। এছাড়া ছিনতাই ও যৌন হয়রানির ঘটনাও বেড়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত

এবার গ্রামীণ ব্যাংকও ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: ড.মুহাম্মদ ইউনূস প্রতারণা এবং জালিয়াতির অভিযোগে একের পর এক অভিযুক্ত হচ্ছেন। একদিকে শ্রমিক ঠকানোর অভিযোগে তিনি দণ্ডিত হয়েছেন। তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া

‘দ্রব্যমূল্য ইস্যুতে কাল থেকেই “অ্যাকশন’’: মন্ত্রিপরিষদ সচিব’

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্রব্যমূল্য ইস্যুতে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে মাঠে কার্যক্রম দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি’) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নতুন মন্ত্রিসভার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রেম বঞ্চিত সংঘ’র বিক্ষোভ

তানজিলা আক্তার রাজশাহী, প্রতিনিধি: রাজশাহী, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ কেউ পাবে না কেউ পাবে না, তা হবে না তা হবে না’ শ্লোগানকে সামনে রেখে বিশ্ব ভালোবাসা

ড. ইউনূসের ব্যাপারে কি সরকার নমনীয় হচ্ছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস শ্রম আদালতের একটি মামলা ছয় মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। কিন্তু তাকে জেলে যেতে হয়নি। কারাদণ্ডের পর ওই

গাজীপুরে মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত বহু

নিজস্ব প্রতিবেদক; গাজীপুরের জয়দেবপুরে মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ মে)