আজ বৃহস্পতিবার ,৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১লা জিলহজ, ১৪৪৩ হিজরি (বর্ষাকাল)

রাত ৩:৫৪

ভিন্নধর্মী উদ্যোগ: প্রশংসায় ভাসছেন ধর্মীয় বক্তা আফসারী

- Advertisement -
- Advertisement -

পরনে লুঙ্গি, কোমরে বাঁধা গামছা, সাথে কয়েক উৎসুক জনতা, পাতিল ভর্তি মাছের পোনা হাতে নেমে পড়ছেন খাল-বিল কিংবা মুক্ত জলাশয়ে। হাটু পানিতে দাঁড়িয়ে অবমুক্ত করছেন মৎস পোনা, মাইক্রোফোন হাতে দিচ্ছেন উৎসাহব্যঞ্জক বক্তব্য। সম্প্রতি স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এমন কিছু ভিডিও ক্লিপ। আর তাতেই প্রশংসায় ভাসছে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ।

যার নেপথ্যে রয়েছেন কুমিল্লার লাঙ্গলকোট উপজেলার এক মাদরাসা শিক্ষক। নাম মুহাদ্দিস রফিকউল্লাহ আফসারী। স্থানীয় বাঙড্ডা ফাজিল মাদ্রাসার এই আরবী প্রভাষক নাম করা ধর্মীয় বক্তাও। ওয়াজ মাহফিলের মঞ্চে আলোচনা করেন গৎবাঁধা নিয়মের বেড়া ডিঙিয়ে, নিজস্ব ঢঙ আর রসিকতার ছন্দে। আলোচনা করেন ভাষার সরলতা (আঞ্চলিকতা) ও বাস্তবতার নিরিখে। যার ফলশ্রুতিতে খুব সহজেই জায়গা করে নেন প্রান্তিক মানুষের অন্তরে। খুব অল্প সময়ে দেশজুড়ে অর্জন করেছেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা। স্যোশাল মিডিয়াতেও রয়েছে তার শক্তপোক্ত অবস্থান।

চল্লিশে পা রাখা মুহাদ্দিস রফিকউল্লাহ আফসারী স্যোশাল মিডিয়াকে সময় নষ্টের হাতিয়ার হিসেবে না দেখে, এটাকে নিয়েছেন দাওয়াতি ও জনকল্যাণমুলক কাজের মাধ্যম হিসেবে। যেই ভাবনা সেই কাজ, শুরু করেন যুবকদের প্রতি সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার আহ্বান। সেই সাথে নিজেও বসে না থেকে নেমে পড়েন বৃক্ষরোপণ, মৎস্যপোণা অবমুক্ত করার কাজে। অল্প সময়ে বেশ ভালো সাড়া পান তিনি। মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণের দাওয়াত পেলেই, ছুটে যাচ্ছেন শহর থেকে গ্রামে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন স্থানে উদ্যোগী হচ্ছেন তরুণ যুবারা, প্রাকৃতিক জলাধারে ছাড়ছেন মৎস্য পোনা। তেমনি একজন নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলার দোয়ালীয়া গ্রামের যুবক রিফাত মাহমুদ। তিনি জানান,”আমি হুজুরের কার্যক্রম ফেসবুকে দেখেছি। তখন আমারও মনে হলো আমাদেরও এগিয়ে আসা উচিৎ, তারপর আমরাও কয়েকজন উদ্যোগ নিয়ে, বাড়ির পাশের খালে ৫ কেজি মাছের পোণা অবমুক্ত করি

মুহাদ্দিস রফিকুল্লাহ এ পর্যন্ত নিজের উপস্থিতিতে দেশের প্রায় শতাধিক স্থানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় দেশীয় প্রজাতির কয়েক’শ কেজি মৎস্য পোণা অবমুক্ত করেছেন। মানুষকে উদ্বুদ্ধকরণের প্রয়াসে সেই সমস্ত ছবি ও ভিডিও আবার ছড়িয়ে দিচ্ছেন নিজের ফেসবুক পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেলে। আর এর মাধ্যমে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এক অভূতপূর্ব মৎস্য বিপ্লবের।

ওয়াজ মাহফিলের মঞ্চে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন কল্যাণমুখী কাজের। সদকায়ে জারিয়ার নিয়তে ‘অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানো, ‘মৎস পোনা অবমুক্তকরণ, ‘বৃক্ষরোপণ, ‘গৃহপালিত পশুপাখি পালনে সবাইকে অনুপ্রাণিত করেন। প্রতিটি ওয়াজ মাহফিলে বিশেষ আলোচনাও করেন এর ধর্মীয় গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে। ধর্মীয় বক্তৃতার পাশাপাশি তার এই কল্যাণমূলক কাজ বেশ প্রশংসীতও হচ্ছে।

দেশীয় জাতের বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্য বিলুপ্তির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে মুহাদ্দিস রফিকুল্লাহ আফসারী বলেন, “দেশিয় জাতের মৎস্য বিলুপ্তি ঠেকাতে, মৎস্য পোনা সংরক্ষণে সরকারের পাশাপাশি আমাদের ব্যক্তি পর্যায়েও উদ্যোগী হতে হবে। মৎস্য পোনা নিধন বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে। দেশের প্রতিটা জলাশয়কে মৎস্য সম্পদের ভান্ডারে পরিণত করতে সকল শ্রেনীপেশার মানুষদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,”আসুন, আমরা প্রত্যেকে নিকটস্থ খাল-বিল-উন্মুক্ত জলাশয়ে নূন্যতম এক মুষ্টি পরিমাণে মাছের পোনা অবমুক্ত করি সদকায়ে জারিয়ার নিয়তে। আমার বিশ্বাস, ১৬ কোটি মানুষ যদি এক মুষ্টি করেও মাছের পোনা ছাড়ে, ইনশাআল্লাহ তবেই ফিরবে সেই সোনালী অতীত, ঘটবে মৎস্য বিপ্লব।”

প্রভাষক রফিকউল্লাহর আফসারীর জনহিতকর কর্মকাণ্ডে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি, সেলিব্রিটি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ধনাঢ্য ব্যক্তি থেকে যুবসমাজ সকলেই এগিয়ে এসেছেন নিঃস্বার্থভাবে। সামাজিক কাজে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের এইধারা অব্যাহত থাকলে, ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’র হারানো ঐতিহ্য অচিরেই ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুহাদ্দিস আফসারী।

- Advertisement -

সর্বশেষ খবরঃ

- Advertisement -

আপনার জন্য আরো খবর

উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে