আপনার জানার ও বিনোদনের ঠিকানা

‘ভারত বিরোধিতা করেই কাছে যেতে চায় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচনের পর বিএনপি তার আন্তর্জাতিক কূটনীতি কৌশল পরিবর্তন করেছে। নির্বাচনের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলোর প্রিয়ভাজন হওয়ার জন্য বিএনপি নিরন্তর চেষ্টা করেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একান্ত বাধ্যগত অনুগত রাজনৈতিক দল হিসেবেই তারা কাজ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ বিচারে দেখা গেছে যে, সঙ্কটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে থাকেননি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে যা বলে সেটাই যে শেষ কথা নয়, এটা বিএনপি নেতারা হারে হারেই বুঝেছেন। আর এই কারণেই নির্বাচনের পরপরই তারা কৌশল পরিবর্তন করেছে।’

এখন বিএনপির কূটনীতি ভারতমুখী। তবে ভারতমুখী করতে গিয়ে তারা ভারতের তোষণ নীতি গ্রহণ করেনি। বরং আশির দশকে বিএনপি যে ধারায় আন্তর্জাতিক কূটনীতি করেছে, সেই ধারায় ফিরে গেছে দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি। বিএনপির নেতারা এখন প্রায় সবাই প্রকাশ্যে ভারত বিরোধিতা করছে, তীব্র ভাষায় ভারতের সমালোচনা করছে। মঈন খান থেকে শুরু করে রুহুল কবির রিজভী প্রত্যেকেই গত এক সপ্তাহে কোনো না কোনো ফোরামে ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন এবং বিএনপির নেতারা সুস্পষ্টভাবে বলছেন যে, ভারতের জন্যই সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে এবং নির্বাচন না করেই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে।’

বিএনপির এই ভারত বিরোধিতা কৌশলগত বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। ২৪ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা ভারতীয় আমন্ত্রণে রিসেপশনে গিয়েছিল এবং সেখানে ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তারা সখ্যতা তৈরিও চেষ্টা করেছে। প্রকাশ্যে তারা ভারত বিরোধিতার কথা বলছে। অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য তারা চেষ্টা করছে। এটিকে কূটনীতিক ভাষায় বলে, প্রেসার ডিপ্লোমেসি। একদিকে ভারতকে তারা বোঝাতে চাচ্ছে যে, শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী জিকির উঠবে এবং জনগণ ভারতবিরোধী হয়ে যাবে। আর এ কারণেই তারা সবগুলো ডিম যেন একপাত্রে না রাখে সেজন্য ভারতকে সতর্ক করেছে। এই কূটনীতিক কৌশল বিএনপি গ্রহণ করেছিল আশির দশকে। সেই সময় সামরিক একনায়ক জিয়াউর রহমান প্রকাশ্যে ভারত বিরোধিতা করতেন এবং ভারতকে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করতেন যে, শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলেই বাংলাদেশে ভারতের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে না। এজন্য সকল পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক করতে হবে ভারতকে। আর এর ফলে ৯০ এর দশকে বাংলাদেশ কূটনীতির পরিবর্তন করেছিল নট অল ফুডস ইন ওয়ান বাস্কেট; এই নীতি গ্রহণ করে। ভারত সকল দলের সঙ্গে এমনকী বাংলাদেশের জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করেছিল। তবে সে অবস্থান থেকে এখন ভারত সরে এসেছে।’

২০০৮ এর নির্বাচনের পর ভারতের বাংলাদেশ নীতি এখন একমুখী। তারা আওয়ামী লীগের উপরে আস্থা রাখতে চায়। আর এ কারণেই ভারতকে চাপে ফেলার কৌশল গ্রহণ করেছে বিএনপি এবং তার মিত্ররা। বিএনপি তো শুধু মুখে ভারতের সমালোচনা করছে। বিএনপির যে মিত্র রাজনৈতিক দলগুলো আছে, নাগরিক ঐক্য এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় পণ্য বর্জন, প্রকাশ্যে ভারতের কঠোর সমালোচনা করে একটি বার্তা দিতে চাইছে। তাদের লক্ষ্য খুব সুস্পষ্ট। বিএনপিসহ তার মিত্ররা ভারতকে বোঝাতে চাইছে যে, আওয়ামী লীগই বাংলাদেশে শেষ কথা নয়। এই ধারায় তারা বাংলাদেশে একটি ভারত বিরোধীতার আবহ তৈরি করতে চায়। যার ফলে ভারত তার নিজের স্বার্থের জন্যই যেন বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একটা আপোস-সমঝোতা করে, এটাই তাদের এই কৌশলের লক্ষ্য। এখন দেখার বিষয় যে, বিএনপির এই কৌশলের ফলাফল কি হয়? জনগণ কি সত্যি সত্যি বিএনপির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভারতবিরোধী অবস্থানে যাবে? এবং, ভারতও কি তাদের একক বন্ধুর অবস্থান থেকে সরে এসে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করবে? এটাই এখন দেখা বিষয়।’

Facebook
Twitter
WhatsApp
Pinterest
Telegram

এই খবরও একই রকমের

সমবায় সমিতির নির্বাচনে মনোনয়ন তুললেন সভাপতি পদে ৫,সম্পাদক পদে ৩ জন

মুক্তার হাসান,এনায়েতপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী এনায়েতপুর হাটে অবস্হিত বহুল কাঙ্খিত এনায়েতপুর হাট বণিক সমবায় সমিতির এি বার্ষিক নির্বাচন হতে যাচ্ছে,এ উপলক্ষ্যে গত মঙ্গলবার

ভুট্টা ক্ষেতের আড়ালে আফিম চাষ, কৃষক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানিকগঞ্জে ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে লুকিয়ে এক কৃষক আফিমের চাষ করছিলেন। গোপনে খবর পেয়ে গোয়েণ্দা পুলিশ ওই কৃষককে আটক ও আফিম গাছগুলো নষ্ট করে

হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ৪১কোটি টাকা নিয়ে ঠিকাদার উধাও

সেলিম রেজা স্টাফ রিপোর্টার সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই) যন্ত্র কিনতে গত বছরের জুনে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গ্রিনট্রেডকে কাজ

টাঙ্গাইলে দুই মোটরসাইলের সংঘর্ষে নিহত দুই

জহুরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে মধুপুর উপজেলার নেকিবাড়ী এলাকায় শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দুইটি মোটরসাইলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও একজন আহত হয়েছে।

‘হস্তশিল্পকে বর্ষপণ্য ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর’

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখায় এ খাতে বিশেষ নজর দিতে ‘’হস্তশিল্প’’কে ‘বর্ষপণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন,“আমি হস্তশিল্পকে ২০২৪ সালের পণ্য

গ্রেপ্তারের ভয় ছাড়ছে না বিএনপি নেতাদের’ নিজস্ব প্রতিবেদক দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে অংশ নিতে শুরু করেছেন। তিন মাস আত্মগোপনে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা যখন ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছেন, তখনো নতুনভাবে গ্রেপ্তারের ভয়ে আছেন তারা। বিএনপির অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আবারও নতুনভাবে ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় পুরোনো মামলায় নতুনভাবে আসামি দেখিয়ে আটকের ঘটনা ঘটছে। এমন অবস্থায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ভয়ভীতির মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন। গ্রেপ্তার আতঙ্কে অনেকেই ঘরবাড়ি কিংবা এলাকা ছাড়া। জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি’) দ্বাদশ সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন প্রতিবাদ হিসেবে কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি দিয়েছিল বিএনপি। তারও আগে ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি মহানগর ও জেলা পর্যায়ে একই কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। কিন্তু পুলিশ মঙ্গলবার রাজধানীতে কোথাও কালো পতাকা মিছিল করতে দেয়নি বলে বিএনপির অভিযোগ। বরং ওইদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুনভাবে শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নতুনভাবে দায়েরকৃত ছয়টি মামলায় ৪৫৬ জনের বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। ৭০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ওইদিন রাজধানীর উত্তরায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে এবং ধাক্কা দিয়ে জিপে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। যদিও তাকে পরবর্তী সময়ে পুলিশ ছেড়ে দেয়। সে সময় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ সংগঠনের ৪ নেত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই দিনে বাগেরহাটের রামপালে বিএনপির কালো পতাকা মিছিল থেকে দলটির কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনিও কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছিলেন।’ বিএনপির অভিযোগ, গত বছরের ২৮ অক্টোবরের পর বিরোধীদের মাঠে দাঁড়াতে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নেতাকর্মীদের যাকে যেখানে পেয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে। এখনো বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তল্লাশির নামে হামলা চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আকবর হোসেন এবং তার পুত্র সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন রনির বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পুলিশ পরিচয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। ওই পরিবারের অভিযোগ, এ সময় বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও ‘লুটপাট’ করা হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বন্দুকের নলে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর সরকারের তথাকথিত মন্ত্রি-এমপিরা এখন আরও বেসামাল কথাবার্তা বলছেন। অবৈধ সরকার বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে লেলিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি বিএনপির পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কালো পতাকা মিছিলে হামলা-নির্যাতন চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও বিরোধী নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে পুলিশ পরিচয়ে তল্লাশির নামে হামলা-ভাঙচুর করা হচ্ছে।’ বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানান, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা ধীরে ধীরে মাঠের রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। অনেকেই কারাগার থেকে ছাড়াও পেয়েছেন। হামলা-মামলা উপেক্ষা করে কৌশলে কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশের তিন মাস পর গত ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকা ও জেলায় জেলায় কালো পতাকা মিছিলে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় অনেককে। তাদের এ উপস্থিতি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আশা জাগিয়েছে। আবারও রাজপথে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে সরকারবিরোধী দলগুলো। কিন্তু গত ৩০ জানুয়ারি সারা দেশে কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় অনেকের মধ্যে আবারও কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে পরবর্তী কর্মসূচি প্রণয়নে বিএনপি কিছুটা সময় নেবে। বিএনপির দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যনুযায়ী ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের ৪-৫ দিন আগে থেকে অদ্যাবধি মোট গ্রেফতার হন ২৫ হাজার ৬৪৪ জনের বেশি নেতাকর্মী। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন গণমাধ্যমকে বলেন, একতরফা ডামি নির্বাচন করেও স্বস্তিতে নেই অবৈধ সরকার। তাদের সবসময় পতনের আতঙ্ক তাড়া করছে। এজন্যই বিএনপির শীর্ষ নেতাদের জামিন না দিয়ে দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে অংশ নিতে শুরু করেছেন। তিন মাস আত্মগোপনে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা যখন ধীরে ধীরে