আজ শনিবার ,১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২১শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি (শরৎকাল)

সন্ধ্যা ৭:৪৮

বিএসএফ, সীমান্তহত্যা নিয়ে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর এক্তিয়ার বাড়ানো নিয়ে তুমুল বিতর্ক হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিধানসভায় পাস হয়েছে প্রস্তাবও।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করছিল। এবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভাতেও একই অভিযোগ উঠে এলো। বিএসএফ-এর এক্তিয়ার বাড়ানোর প্রশ্নে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং বিধায়ক তাপস রায় রীতিমতো পরিসংখ্যান দিয়ে বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে সীমান্তহত্যা, গুম, অপহরণের অভিযোগ তুললেন। যা নিয়ে বুধবারও উত্তপ্ত বিধানসভা। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করেছেন।

বস্তুত, মঙ্গলবার বিধানসভায় রাজ্য সরকার একটি প্রস্তাব পাশ করেছে। ১১২-৬৩ ভোটে পাশ হওয়া সেই প্রস্তাবে নয়াদিল্লিতে আসীন কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে- পশ্চিমবঙ্গে, পাঞ্জাবের মতো রাজ্যে বিএসএফ-এর এক্তিয়ার বাড়ানো হবে। সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অঞ্চলে তারা কাজ করতে পারবে। ওই অঞ্চলে তারা সাধারণ মানুষের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে পারবে, আটক করতে পারবে এবং এসব ক্ষেত্রে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে না ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সরকারের অভিযোগ, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরোধী এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় এ সম্পর্কে বুধবার বিধানসভায় বলেন, ‘কেন্দ্র পিছনের দরজা দিয়ে রাজ্যের এলাকা দখল করতে চাইছে।’

তার বক্তব্য, আগে বিএসএফের যে এক্তিয়ার ছিল, তাতে তারা সীমান্তের অপরাধ বন্ধ করতে পারেনি। কোন যুক্তিতে তারা নতুন এক্তিয়ারে অপরাধ বন্ধ করতে পারবে?

সীমান্তে হত্যা

বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক তাপস রায় বিএসএফের বিরুদ্ধে একাধিক তথ্য তুলে ধরেছেন বিধানসভায়। তার বক্তব্য, ‘গত পাঁচ বছরে বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে ২৪০টি অত্যাচার, ৬০টি খুন এবং ৮টি নিখোঁজের ঘটনার অভিযোগ আছে। সেই বিএসএফ-এর এক্তিয়ার বাড়িয়ে বিজেপি রাজ্যের এক-তৃতীয়াংশ দখল করতে চাইছে আর আমরা দাঁত বার করে দেখব?’

তাপসের এই অভিযোগের জবাবে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় তিনি বলেছেন, ‘যাদের সীমান্তে পাহারা দেওয়ার কারণে আমরা রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি, তাদের নামে অশালীন, নিম্নরুচির কথাবার্তা বিধানসভায় ব্যবহার করা হয়েছে।’ বিজেপির আরেক বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী বলেছেন, ‘বিএসএফ শুধু গ্রেপ্তার বা বাজেয়াপ্ত করতে পারে। তাদের হাতে তদন্ত বা বিচারের ক্ষমতা নেই। পুলিশের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই। তাহলে অসুবিধা কোথায়?’

তবে শ্রীরূপা কোনো অসুবিধা খুঁজে না পেলেও এ ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা রয়েছে বলেই মনে করেন মানবাধিকার কর্মীরা। মানবাধিকার সংগঠন মাসুমের কর্মকর্তা কিরিটি রায় ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ‘সীমান্তহত্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিএসএফ-এর ক্ষমতা বাড়ার অর্থ সীমান্তে অশান্তি আরো বাড়বে। কোন যুক্তিতে সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার ভিতরে সীমান্তরক্ষা বাহিনীর প্রয়োজন হয়?’

সম্প্রতি উপনির্বাচনে দিনহাটা থেকে জিতে আসা বিধায়ক উদয়ন গুহ বলেছেন, সীমান্তে পাচারের সঙ্গেও বিএসএফ যুক্ত। তারা কার্ড দেখিয়ে কাঁটাতার পেরিয়ে কাজ করতে আসা নারীদের গায়ে তল্লাশির নামে হাত দেয়। কোনোভাবেই বিএসএফের এক্তিয়ার বাড়ানোর যুক্তি মানা যায় না। এতে অশান্তি বাড়বে। সিপিএম এবং কংগ্রেসও ইতোমধ্যে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা বিএসএফ-এর এক্তিয়ার বাড়ানোর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রস্তাব পাশ করেছে। তার আগে পাঞ্জাব বিধানসভাও একই কাজ করেছে। কিন্তু তাতে কি লাভ হবে?

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসএফ-এর এক সাবেক অফিসার ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রের। ফলে বিধানসভার প্রস্তাব আইন বদলাতে পারবে না; কিন্তু কেন্দ্রীয় নীতির উপর চাপ তৈরি করতে পারবে।

এদিকে বুধবার এক বিবৃতিতে বিএসএফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে কথা বলেই তারা কাজ করবে। তাদের ক্ষমতা বাড়ানো হয়নি। এখন দেখার, পাঞ্জাব এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুইটি সীমান্ত অঞ্চলের চাপের সামনে কেন্দ্র সিদ্ধান্ত বদল করে কি না।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে

 

সর্বশেষ খবরঃ

আপনার জন্য আরো খবর

উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে