আজ সোমবার ,১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৩শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি (শরৎকাল)

সকাল ৮:৫৮

টিপ নিয়ে যারা প্রতিবাদ করলেন

কপালে টিপ পরায় রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক লতা সমাদ্দারকে হয়রানির ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও নারী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা।

রোববার আলাদা আলাদা বিবৃতিতে এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্বাধীন রাষ্ট্রে এ ধরনের ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। জননিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে এমন ঘটনা সাম্প্রদায়িক ও ন্যক্কারজনক।

তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দার কলেজের কাছে হয়রানির শিকার হন। পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি তাঁকে গালি দেন উল্লেখ করে শেরেবাংলা নগর থানায় গতকাল শনিবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন লতা।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু এক বিবৃতিতে বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫২ বছর পর স্বাধীন ও সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রে এ ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। জননিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ প্রশাসনের কোনো ব্যক্তির দ্বারা এ ন্যক্কারজনক ঘটনা আমাদের স্তম্ভিত করেছে।’

৭২ ঘণ্টার মধ্যে দায়ী পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। এক বিবৃতিতে পরিষদের সভাপতি ঊষাতন তালুকদার, নিমচন্দ্র ভৌমিক, নির্মল রোজারিও ও সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, লতা সমাদ্দারের ওপর সংঘটিত ঘটনা পুলিশ প্রশাসনের একাংশের চলমান সাম্প্রদায়িকতার নগ্নরূপ। সরকার ও প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সাম্প্রদায়িকতা কুরে কুরে খাচ্ছে।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ওই পুলিশ সদস্য লতা সমাদ্দারকে শুধু কটূক্তিই করেননি, প্রতিবাদ করায় তাঁর পায়ের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সরকারের আমলে একজন কলেজ শিক্ষককে এভাবে লাঞ্ছিত করতে পারে—এর নিন্দা জানানোর ভাষা অজানা।

আরেক পৃথক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক ও কো–চেয়ারপারসন শাহীন আনাম। তাঁরা বলেন, জননিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধপরিপন্থী আচরণ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের বাহিনীতে নারীর প্রতি কট্টর ও মৌলবাদী চিন্তাধারণ করা ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার ফলে গতকালের এ ঘটনা ঘটেছে।

কপালে টিপ পরায় হয়রানির ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, নারীপক্ষ, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ও প্রীতিলতা ব্রিগেড।

সর্বশেষ খবরঃ

আপনার জন্য আরো খবর

উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে