আজ শনিবার ,১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২১শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি (শরৎকাল)

রাত ১০:৩৯

কিডনি দিয়ে একে অপরের স্বামীকে বাঁচালেন হিন্দু-মুসলিম দুই নারী

তারা দু’জন। একজন হিন্দু, অন্যজন মুসলিম। তাদের দু’জনেরই কিডনির সমস্যা। কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। তাদের ঘরে স্ত্রীও আছে। তারা একে অপরের স্বামীকে বাঁচালেন কিডনি দিয়ে। ধর্মের বেড়াজাল ছিন্ন করে মানবিকতার অনন্য এই নজির গড়ে নিজ স্বামীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের দুই নারী।

মঙ্গলবার ভারতীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার পর গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিকাশ উনিয়াল (৫০) হেমোডায়ালাইসিস করে আসছেন। কিডনির একই সমস্যা আশরাফ আলীরও (৫১)। তাদের দু’জনের কিডনি প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন, কিন্তু দাতা পাওয়া গেলেও কিডনি ম্যাচিং হচ্ছিল না।

বিকাশ এবং আশরাফ— দু’জনই উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের হিমালয় হাসপাতালে ভর্তি। তারা দু’জন একই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আছেন। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পান, বিকাশের স্ত্রীর কিডনির সঙ্গে আশরাফের মিলে যাচ্ছে এবং আশরাফের স্ত্রীর কিডনির সঙ্গে বিকাশের মিলে যাচ্ছে। পরে তারা দু’জন সিদ্ধান্ত নেন একে অপরের স্বামীকে বাঁচাবেন নিজেদের কিডনি দেওয়ার মাধ্যমে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চিকিৎসক বিকাশ এবং আশরাফের সফল কিডনি প্রতিস্থাপন করেন। বর্তমানে তারা দু’জন সুস্থ আছেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, কিডনির খোঁজ যখন মিলছিল না তখনও কিছু একটা হবে ভেবে আশা দেখছিলেন বিকাশ এবং আশরাফ।  কিন্তু এতে প্রচুর সময় লাগছিল। কারণ একজন কিডনি দাতা পাওয়ার জন্য তার রক্ত পরীক্ষা, ক্রসম্যাচ টেস্ট, এইচএলএ অ্যান্টিজেন টেস্ট এবং আরও নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়।

কিন্তু কিডনি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চালালেও তাতে কোনও আশার আলো মিলছিল না। তখন হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিকল্প উপায় চিন্তা-ভাবনা করতে শুরু করেন। হাসপাতালে থেকে কিডনি চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছিল উভয় পরিবারের জন্যও। তাদের প্রত্যেকের মাসে প্রায় ২০ হাজার ভারতীয় রুপি চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করতো হতো।

২০১১ সালে ভারতের মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইনে সংশোধনীর কারণে এই প্রতিস্থাপন সম্ভব হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক আহমেদ। এই আইনে রক্তের আত্মীয়-স্বজন ছাড়া অন্যদের অঙ্গ দানের অনুমতি দেওয়া হয়।

সুশমা এবং সুলতানা দু’জনের একে অপরের স্বামীকে কিডনি দেওয়ার জন্য রাজি হয়ে যান। সুশমা বলেন, এটি সৌভাগ্যজনক, কাকতালীয় ঘটনা। আমার স্বামী গত আড়াই বছর ধরে ভুগছেন। অস্ত্রোপচারের আগে আমাদের সব ধরনের পরীক্ষা করা হয়। এতে কোনও সমস্যা ধরা না পড়ায় আমরা একে অপরের স্বামীকে কিডনি দিয়েছি।

সুলতানাও অবশেষে স্বস্তির দেখা পান। তিনি বলেন, আমাদের কাছে এর মূল্য অনেক; অর্থ এবং মানসিক— উভয় দিক থেকে। কিন্তু আমরা এই পরিস্থিতিতে পরস্পরকে সাহায্য করতে পেরেছি, এটাই গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

সর্বশেষ খবরঃ

আপনার জন্য আরো খবর

উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে