আজ বৃহস্পতিবার ,১৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০শে মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি (শরৎকাল)

বিকাল ৩:৫৭

কতটুকু বিশ্বাস করবেন “প্রিয়জন কে” – কবির বিন সামাদ

- Advertisement -
- Advertisement -

বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। যে কেও আমার এ লেখার বিরোধিতা করতেই পারেন। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং অস্বাভাবিক হলো সবাই যদি আমার মতে একমত বা সহমত হয়। বিচিত্র এই পৃথিবীতে আমরাও বড়ই বিচিত্র। আর তাই এত মত এত এত পথ। তবে বিশ্বাস ঘাতকেরা সব সময় “সহমত” ভাইয়ের লোক হয়। এরা রক্তের সাথে মিশে যায়। ছলে বলে কলে কৌশলে সত্য মিথ্যার সংমিশ্রণে ধ্বংসের জাল বুনে চলে নিবিড়ভাবে। 

আমরা মীরজাফরের নাম সবাই জানি। আমরা এটাও জানি যে, বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজুদ্দৌলার পলাশী যুদ্ধের ইতিহাস। মীরজাফরের বিশ্বাস ঘাতকতার জন্যে অস্ত যায় বাংলার স্বাধীন সূর্য। নেমে আসে ইংরেজদের দুঃশাসন এবং প্রায় দুইশত বছর শাসন করে তারা। যুগে যুগে মীরজাফরদের জন্ম এবং কর্ম ছিলো আছে থাকবে। নবাবের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা এটা ছিলো জাতীয় কিম্বা আন্তর্জাতিক ইস্যু । আর তাই এটা ইতিহাস হয়েছে। কিন্তু অজপাড়াগাঁয়ে কিম্বা আপনার আমার আশেপাশেও আছে এমন মীরজাফরি কর্মকাণ্ডের লোক এবং ঘটনা । এবং এটা আর ইতিহাস হয়না, হবেও না। 
এইতো ৮/১০ দিন আগের ঘটনা পাঠাও এর সহকারী প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ কে হত্যা করে তার লাশ টুকরো টুকরো করেছে। প্রথমে খুনি ধরা না পড়লেও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আসামী এরেস্ট করেছে আমেরিকান পুলিশ। আর হত্যাকারী হলো তারই কাছের মানুষ। যাকে দায়িত্ব দিয়েছিলো ফাহিমের একাউন্টিং বিষয় দেখভালের জন্যে। সরিয়েছে ১ লাখ ডলার। ফাহিম উদারতা দেখিয়ে পুলিশ রিপোর্ট না করে তাকে সুযোগ করে দিয়েছিলো অর্থটা ফেরত দেবার। কিন্তু না সে শুধু বিশ্বাস ঘাতকতা করেই ক্ষ্যন্ত হয়নি বরং তাকে জানে শেষ করেই ছেড়েছে।
আর তাই আসুন আল্লাহর বাইরে কাওকে বিশ্বাস করতে হলে মা বাবা। আর এর বাইরে বিশ্বস্ত কেও নেই বলেই আমি মনে করি। বাকি সবাই স্বার্থের পাগল। দিতে পারলে সবাই খুশি। নিতে গেলেই বাধে দ্বন্দ্ব। ধার বা কর্জের টাকা চাইতে গিয়ে কত বন্ধুত্ব, কত সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে তার ইয়াত্যা নেই। আর তাই এড়িয়ে চলুন ঘেঁষাঘেঁষির সম্পর্ক থেকে, দেয়া নেয়ার সম্পর্ক থেকে।  মানুষকে বিশ্বাস করুন কম। আগে বিশ্বাস করলে জিতে যেতো বিশ্বাসী কিন্তু এখন হেরে যায়, হতাশ হয়। আর তাই অতি বিশ্বাস না করে…
১) নিজের কাজ নিজে করুন যতদূর পারা যায়।
২) নিজের অবস্থান অন্যের কাছে বলা থেকে বিরত থাকুন। 
৩) নিজের দূর্বলতা রব ছাড়া কারো কাছে প্রকাশ করবেন না।
৪) নিজের প্লান পরিকল্পনাও শেয়ার করার দরকার নাই কোনো প্রিয়ের কাছে।
৫) নিজের আয় ইনকামও জানাবেন না প্রিয় কাওকে।
মনে রাখবেন পৃথিবীর সব মানুষই খারাপ না তবে সব মানুষ ভালোও না। প্রবেলম টা হলো খারাপ ভাল চিনতে না পারা। আর তাই সন্দেহ যুক্ত সম্পর্কে অতিরিক্ত না জড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ। 
আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজতে রাখুন।
- Advertisement -

সর্বশেষ খবরঃ

- Advertisement -

আপনার জন্য আরো খবর

উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে