আজ বৃহস্পতিবার ,৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি (হেমন্তকাল)

দুপুর ১:১৩

অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে।

১৯৮৭ সালে জন্ম। কিছুটা বুঝতে শিখেছি সম্ভবত ২০০০ সাল থেকে।
তবে জ্ঞান গুন হবার আগেই ২০০২ সালের জানুয়ারী মাসে আব্বাকে হারিয়েছি এক দুর্ঘটনায়। সেদিনের স্মৃতি ভুলতে চাইলেও পারিনা। সকালে বাবার দুর্ঘটনার খবর শুনে আর মায়ের মুর্ছা যাওয়া দেখে ভাবছিলাম বড় কোনো দুর্ঘটনাই ঘটেছে। কিন্তু এত বড় তা আন্দাজ করতে পারিনি।
দূর সম্পর্কের আত্মীয় মামার সাথে বাইকে যেতে যেতে কতবার আল্লাহকে ডেকে ডেকে বলেছিলাম আল্লাহগো তুমি বাবাকে ডাকতে দিও। মৃত বাবা চাইনা। আমার বাবাকে জীবিত দেখতে চাই। তুমি রহম করো। তুমি দয়া করো…..


বারবাজারের সেই কালো পথ। আজো ঝিনাইদহ যেতে ক্রস করলাম জায়গাটা। কখনো দাঁড়ায়না সেখানে আসা যাওয়ার পথে। কষ্ট লাগে। রক্তে লাল হয়েছিলো পিচ ঢালা কালো পথ। সেখান থেকে কালীগঞ্জ থানা। বাবাকে চাদর দিয়ে বাধা ছিলো বাবার দেহ। সবুজ ঘাসের গালিচায় শোয়ানো। নাকে মুখে কানে রক্ত। চিতকার করে ডেকেছিলাম আব্বা…. আব্বা গো…. হ্যা সেদিনই ছিলো আমার হৃদয় খোলা শেষ ডাক।
না আব্বা আর ডাকে সাড়া দেয়নি। আজ পর্যন্ত আর আব্বা ডাক ডাকতে পারিনি। মাঝে মাঝে সন্তানদের আব্বা ডেকে স্বাদটা খুঁজি। না তা পাইনা। সম্ভবও না। সেই শুরু জীবন সংগ্রামের। মাঝে মাঝে হুছোট খেঁয়ে থমকে দাঁড়িয়েছি। অনেকের আচরণে ব্যথিত হয়েছি। আড়ালেই ঝরিয়েছি চোঁখের অশ্রু। কাছের মানুষ গুলোকে দেখেছি অসময়ে তাদের স্বার্থপরতা। ২০০২ থেকে ২০২০ সংখ্যা গুলো আগ পিছ হয়েছে। বয়ে গেছে অনেকটা সময়। মহান কিছু হয়েছি এমন নয় তবে চেষ্টা করে রবের কৃপায় যতদূর এসেছি এইই অনেক কিছু। বাবা থাকলে সম্ভবত আরো আগে পোঁছাতে পারতাম কাঙ্ক্ষিত লক্ষে। সর্বোপরি আল্লাহ যা চেয়েছেন। আজ বছরের প্রথম দিনে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা সত্যিই আমার পাশে ছিলেন খোলা মনে। আমি স্বার্থ খুঁজলেও যারা স্বার্থ খোঁজেননি কবির বিন সামাদ কিম্বা ঠিকানা টিভি ডট প্রেসের কাছে। সবাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। পুরাতন বছরের গ্লানী মুছে যাক, সকল দুঃখ কষ্ট ঘুচে যাক। নতুন বছর হোক নতুন সব সাফল্যের। আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন।
_আপনাদেরই কবির বিন সামাদ।

কবির বিন সামাদ

সর্বশেষ খবরঃ

আপনার জন্য আরো খবর

উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে